এনার্জি ড্রিংকস পান করলে আপনার শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে

ঠান্ডা এনার্জি ড্রিংকস এসব পানীয় খেলে কী হয়? পুষ্টিবিজ্ঞানী ড. ফ্যারিমন্ড জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব এনার্জি ড্রিংকস পানে খাদ্যনালির ভেতরের মিউকাস মেমব্রেন নষ্ট হয়ে যায়। নাড়ির সংকোচন ও সম্প্রসারণ ক্ষমতা কমে খাদ্য থেকে পুষ্টি শুষে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। এ ছাড়া হজমক্ষমতা কমে, বদহজম, খাদ্যে বিষক্রিয়া, গ্যাস্ট্রিক, ক্ষুধামান্দ্যসহ নানা অসুখ-বিসুখ দেখা দিতে পারে। হতে পারে স্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যও।


অতিরিক্ত চিনির কারণে অনেকের শরীরের ওজন বেড়ে স্থুলস্বাস্থ্যে পরিণত হয়। বাড়ে শরীরের চর্বি বা কোলেস্টেরলের পরিমাণও। শরীরের ক্যালসিয়াম মলিউকুল গঠন প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে। হাড় দুর্বল ও নরম হয়ে যায়। এ ছাড়া জনন প্রক্রিয়ায় স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে।

আসুন দেখে নিই আপনার শরীরে কী পরিবর্তন ঘটে এক ক্যান এনার্জি ড্রিংকস পানের পর :

প্রথম ১০ মিনিট :
এ সময় এনার্জি ড্রিংকসে থাকা ক্যাফেইন রক্তে মিশে যেতে শুরু করে। মানবদেহও সঙ্গে সঙ্গে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়ে এই পরিবর্তনে সাড়া দেয়।

১৫ থেকে ৪৫ মিনিট :
আপনি কত দ্রুত পান করেছেন, তার ওপর ১৫ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যের শারীরিক প্রতিক্রিয়া নির্ভর করে। এই সময়ের মধ্যে এনার্জি ড্রিংকসে থাকা ক্যাফেইন ও অন্যান্য উপাদান আপনার শরীরে অনেকটাই মিশে গেছে। ক্যাফেইন একটি উদ্দীপক ওষুধ হওয়ায় এই সময় আপনি নিজেকে যেকোনো কাজে আরো বেশি কর্মতৎপর অনুভব করবেন।

ড. ফ্যারিমন্ড বলেন, ‘পানীয়গুলো পানের কিছুক্ষণ পর থেকে রক্তের সঙ্গে শরীর ও মস্তিষ্ক উদ্দীপ্ত হয়।’

৩০ থেকে ৫০ মিনিট :
পানীয় পানের পরবর্তী ৫০ মিনিটের মধ্যে ক্যাফেইন পুরোপুরি আপনার শরীরে মিশে যায়। এ সময় যকৃত উদ্দীপ্ত হয়ে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করতে শুরু করে। এই সময়ের মধ্যে শরীরের অন্যান্য প্রত্যঙ্গ মিলে চিনি শোষণ করতে শুরু করে। ফলে যকৃতে  তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। তবে ক্যাফেইনের প্রতিক্রিয়া থাকায় শরীর তখনো উদ্দীপ্ত থাকে।

এক ঘণ্টা পর :
এক ঘণ্টা পর থেকে যকৃত রক্তে থাকা চিনির অনেক খানিই টেনে নেয়। ফলে রক্তে চিনির মাত্রা ও উদ্দীপক ক্যাফেইনের মাত্রা আস্তে আস্তে কমতে থাকে। ফলে শরীরে শক্তির স্তরও কমতে থাকে। দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর অবসাদ ও ক্লান্তি লাগা শুরু হয়। এই সময়ে অন্ত্রে থাকা চিনি রেচন প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়। মূত্রের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি, ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থ ও ইলেকট্রোলাইট শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর :
ড. ফ্যারিমন্ড জানান, শরীরে সাধারণত ক্যাফেইনের কার্যপ্রক্রিয়া থাকে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। তবে সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে ক্যাফেইনের উদ্দীপক প্রভাবটি কমে যায়। ফলে এ সময়ে শরীরে ক্যাফেইনের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় অবসাদ দেখা দেয়।

১২ ঘণ্টা পর :
এ সময় শরীরে ক্যাফেইনের উদ্দীপক প্রভাব একেবারেই চলে যায়। তবে যেসব নারী জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খান তাঁদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা আরো ছয় ঘণ্টা বেশি হতে পারে। তবে এই সময়ের মধ্যে শরীরে ক্যাফেইন প্রত্যাহারের প্রভাব শুরু হয়।

১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা :
নিয়মিত এনার্জি ড্রিংকস সেবনকারীদের সাধারণত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার ওই পানীয় পানের তুমুল আগ্রহ দেখা দেয়। কারণ শরীর ততক্ষণে কোমল পানীয় পানে যে পদার্থগুলো শরীরে ঢুকেছে তা প্রত্যাহার করতে শুরু করেছে। এই সময়ে মাথাব্যথা, মেজাজ খারাপ এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের উপসর্গও দেখা যায়।

সাত থেকে ১২ দিন :
গবেষণায় দেখা গেছে, টানা সাত থেকে ১২ দিন এনার্জি ড্রিংকস গ্রহণের ফলে শরীর নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

বিশ্বের অনেক দেশেই এনার্জি ড্রিংকস নিষিদ্ধ :
২০০৮ সালে ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে কোমল পানীয় বা এনার্জি ড্রিংকস বিক্রির মেশিন বাধ্যতামূলকভাবে অপসারণ করা হয়। এ ছাড়া চীন, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে কোমল পানীয় বা এনার্জি ড্রিংকস বিক্রিও নিষিদ্ধ।

তথ্যসুত্রঃ এন টিভি