ওয়াক্সিং করার আগে ও পরে যা যা করবেন না!

অনেকে বলবেন, হেয়ার রিমুভিং লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে। কিন্তু ভুক্তভোগী মাত্র জানেন যে তা ওয়াক্সিংয়ের মতো কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। শেভ করা তো একেবারেই কাজের নয়। কারণ এই দুটো পদ্ধতির কোনটাই গোড়া থেকে লোমকে তোলে না। ফলে কিছু দিনের মধ্যেই তা আবার খর খর করে মাথা তোলে। মাথা তোলে ওয়াক্সিং করলেও, কিন্তু তাতে টাইম গ্যাপ অনেক বেশি। অর্থাত, কথা হলো,  পেতে গেলে ওয়াক্সিং ছাড়া গতি নেই, বিশেষ করে মহিলা হলে। বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় ব্যথা এবং কয়েকটি ছোটখাটো সমস্যা। কয়েকটি নিয়ম মানলেই যা অনেক কমিয়ে আনা যায়৷ওয়্যাক্স করার আগে –

হাত-পা-বাহুমূল ও শরীরে অন্য যে যে অংশের লোম তুলবেন সে সব জায়গা আলতো হাতে ভালো করে স্ক্রাবিং করে নিন। ভালো কোম্পানির বা ঘরোয়া স্ক্রাবার ব্যবহার করতে পারেন। গামছায় সাবান লাগিয়ে ঘষে পরিস্কার করুন। নাইলন স্ক্রাবার দিয়েও ঘষতে পারেন। এতে ত্বকের মরা কোষ, যেগুলি লোমরে গোড়ায় জমে আছে তা উঠে লোম বেরোনোর পথ পরিষ্কার করে দেবে। এরপর উষ্ণ গরম জলে ভালো করে স্নান করুন। লোমকূপের গোড়া পরিষ্কার ও খানিকটা বড়ো হওয়ার ফলে ওয়াক্স করার সময় ব্যথা কম লাগবে। বিকিনি ওয়াক্স করার আগে যোগ করে নিন। শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়লে ব্যথা কম লাগবে। লোম একটু ছোট করে ছেঁটে নিন। না হলে স্ট্রিপ টানার সময় মাঝখান থেকে ছিঁড়ে গেলে, আবার নতুন করে ওয়াক্স লাগিয়ে টানতে হবে৷ কষ্ট বাড়বে। তবে এতো ছোট করবেন না যে স্ট্রিপে আটকাতে অসুবিধে হয়। পিরিয়ড Period হয়ে যাওয়ার পর ওয়াক্স করুন, বা শুরু হওয়ার অন্তত ৭-১০ দিন আগে। ঠিক আগে আগে করলে ব্যথা বেশি লাগে।

ওয়্যাক্সিং করার আগে যা যা করবেন না –

ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন না। খুব ড্রাই লাগলে ওয়াটার বেসড ময়েশ্চারাইজার লাগাতে পারেন। তবে না লাগানোই ভালো।

মদ বা ক্যাফেইন খেলে লোমকূপের মুখ টাইট হয়ে যায় বলে ব্যথা বেশি লাগে। কাজেই মদ তো খাবেনই না, চা-কফি-কোলা-চকলেটও বাদ দিন। খেয়ে ফেললে ওয়্যাক্সিং-এর ডেট এক দিন পিছিয়ে দিন।

ত্বকে কোনও কাটা-ছেঁড়া, কালশিঁটে বা ব্রণ pimple জাতীয় সমস্যা থাকলে না সারা পর্যন্ত করবেন না।

কোনও স্কিন ট্রিটমেন্ট চলাকালীন করবেন না। ব্যথা তো বেশি লাগবেই, ত্বকে দাগ বা ছোপও পড়তে পারে। বিশেষ করে যদি রেটিনয়েড বা আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড মেশানো মলম লাগিয়ে চিকিত্‍সা চলে। নেহাত্‍ করাতে হলে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।

ওয়্যাক্সিংয়ের পরে যা যা করবেন না –

বডি স্প্রে ব্যবহার করবেন না। কারণ ত্বক বেশি সময় স্পর্শকাতর থাকে বলে রিয়েকশন হতে পারে।

টাইট সিন্থেটিক জামা-কাপড় পরবেন না। ঢিলে সুতির পোশাক Cotton clothing পরুন যাতে ত্বকে হাওয়া-বাতাস লাগতে পারে।

স্বাভাবিক ঠান্ডা জলে স্নান করুন। গরম জলে স্নান বা ওয়াক্স করার পরই রোদে বের হওয়া ঠিক নয়।

আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড মেশানো ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন না। জ্বালা করতে পারে।

স্ক্রাবিং করতে চাইলে অন্তত দু-তিন দিন বাদে করুন।

আগামী ২৪ ঘণ্টা ভারী ব্যায়াম Exercise করবেন না। অতিরিক্ত ঘেমে গেলে ত্বকে রিয়েকশন হতে পারে। ইনফেকশন হওয়াও বিচিত্র নয়।