কীভাবে পাবেন শীতের দিনে ঝলমলে চুল? জেনে নিন!

কয়েক দিন ধরেই জেঁকে বসেছে শীত। এই সময় ঠান্ডা পানিতে চুল ভেজানো তো এক দুরূহ কাজই বটে। গোসল করতে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা হয়, তাতেও চুলের বারোটা বাজতে দেরি হয় না। স্বাভাবিকভাবেই চুলের তাপমাত্রার চেয়ে গরম পানির তাপমাত্রা বেশি হয়ে থাকে। যে কারণে চুল আরও শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ হয়ে যায়।


আবার নিয়মিত চুল না ধুলেও তো দেখা দেয় নানা সমস্যা। এ জন্য গোসলের আগে চুলে শাওয়ার ক্যাপ পরে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন হারমোনি স্পার রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা। তিনি বললেন, ‘গোসল শেষে কুসুম গরম পানিটাকে আরেকটু ঠান্ডা করে নিন। এবার শাওয়ার ক্যাপ খুলে ভালো করে চুলগুলোকে ধুয়ে নিন।

সবশেষে এক মগ হালকা কুসুম গরম পানিতে এক চা-চামচ ভিনেগার দিয়ে চুলগুলোকে আবারও ধুয়ে নিন। ভিনেগারের গন্ধ যাদের পছন্দ নয় তাঁরা অবশ্য লেবুর রসও ব্যবহার করতে পারেন। এতে গরম পানিতে গোসল করলেও চুল আর রুক্ষ হওয়ার ভয় থাকবে না।

যাদের চুল প্রকৃতিগতভাবেই একটু শুষ্ক প্রকৃতির শীতের সময়টা তাঁদের একটু বেশিই ঝামেলা পোহাতে হয়। কারণ ঠান্ডার সময় চুলে প্যাক লাগালে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শীতের সময় চুলের রুক্ষতা দূর করতে এমন প্যাক বেছে নিতে হবে যেগুলো ধুতে খুব বেশি পানির প্রয়োজন হয় না। শীতে চুলের যত্নে মেহেদির প্যাকগুলো এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। এর পরিবর্তে যাদের চুল একটু লম্বা তারা সপ্তাহে এক দিন পরিমাণমতো দুধ, মধু আর লেবুর রস মিলিয়ে লাগাতে পারেন। একটা কলার সঙ্গে আধা কাপ টক দই ভালো করে পেস্ট করে লাগাতে পারেন মাঝারি দৈর্ঘ্যের চুলে। তবে যেকোনো প্যাক ব্যবহারের আগে তা হালকা গরম করে নিন। শীতের সময় কোনো প্যাকেই চুলে ২০ মিনিটের বেশি রাখবেন না।

চুলে তেল লাগিয়ে সারা রাত রাখলে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা থাকে। তাই তেল গরম করে নিয়ে গোসলের আধা ঘণ্টা আগে চুলে লাগা। এরপর শ্যাম্পু করে নিন। চুল ধুতে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার-সমৃদ্ধ শ্যাম্পু বেছে নিন। শীতকালে চুল রুক্ষ হওয়া ছাড়াও আরেকটা সমস্যা বেশ দেখা দেয় অনেকের। তা হলো চুলের ডগা ফেটে যাওয়া। এদিকে আবার অনেকেরই ধারণা যে শীতে চুল কাটলে সেই চুল আর লম্বা হবে না।

রাহিমা সুলতানা জানালেন, এটা একেবারেই একটা ভুল ধারণা। বরং শীতে আগা ছাঁটলেই চুল আরও সুন্দর করে বেড়ে ওঠে। তাই চুল ফেটে গেলে সঙ্গেই সঙ্গেই ছেঁটে ফেলার পরামর্শ দিলেন এই রূপবিশেষজ্ঞ।

ছবিটি ইন্টারনেট হতে সংগৃহীত