গর্ভকালীন সময়ে অনাগত সন্তানকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে!

বাচ্চাদেরকে নিয়ে কম-বেশি ঝামেলা পোহাতে হয় সবাইকেই। বিশেষ করে হুটহাট আক্রমণ করে বসা রোগ-ব্যাধি আর নানরকম সংক্রমণের হাত থেকে কি করে এই নাজুক শরীরগুলোকে রক্ষা করা যায় সেটা নিয়ে খুব চিন্তায় পড়ে যান সদ্য বাবা-মায়েরা।

তবে আপনি কি জানেন যে সদ্য জন্ম নেওয়া বাচ্চাদের চাইতে আরো অনেক বেশি সংক্রমণের ভয়ে থাকে বাচ্চারা গর্ভে থাকাকালীন সময়ে? আর তাই জেনে নিন গর্ভকালীন সময়ে অনাগত শিশুটির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানারকম সমস্যা ও সেগুলোর প্রতিকারের কথা।

১. গ্রুপ বি স্ট্রেপ –
সাধারনত নারীদের ভেতরে অনেকের শরীরের ভেতরেই এই গ্রুপ বি স্ট্রেপ নামক ব্যাকটেরিয়াটি থাকলেও সেটি এমনিতে কারো খুব একটা ক্ষতি করেনা। ছোঁয়াচেও নয় এটা। বলা যায় একেবারে সাদাসিধে একটা ব্যাকটেরিয়া। তবে এই সাদাসিধে ব্যাকটেরিয়াই প্রাণসংহারী হয়ে যায় যখন নারী মা হতে চলে এবং এবং ব্যাকটেরিয়াটি খোঁজ পায় মায়ের গর্ভে থাকা জন্ম নিতে যাওয়া শিশুটির। বি স্ট্রেপ ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে নবজাতকের মৃত্যুও খুব স্বাভাবিক ঘটনা ( সিডিসি )। আর তাই গর্ভকালীন সময়ে পরীক্ষা করে নিন আপনার শরীরে বি স্ট্রেপ রয়েছে কিনা। যদি থেকে থাকে তাহলে চিকিত্সকের দেওয়া ঔষধ নিয়মিত খান আর সুস্থ রাখুন অনাগত প্রাণটিকে।

২. সাইটোমেগালোভাইরাস (সিএমভি) –
সিএমভি ভাইরাসটিও অনেকটা গ্রুপ বি স্ট্রেপের মতন। এমনিতে বোঝা যায়না এবং খুব একটা সমস্যাও করেনা এটা কারো শরীরে। বাচ্চাদের জন্যে খানিকটা ঝামেলার হলেও বেশিরভাগ অনাগত শিশুই কোনরকম ক্ষতি ছাড়াই সিএমভিএর উপাদান নিয়ে জন্মে থাকে। কিন্তু এর ভেতরে কিছু শিশু রয়ে যায় যাদের ক্ষেত্রে মায়ের শরীরের এই সিএমভি আক্রমণ করে প্রচন্ড বাজেভাবে আর কেড়ে নেয় দৃষ্টি শক্তি ও শ্রুতিশক্তি ( সাউথ জার্সি জার্নাল )। যাতে এ ধরনের সমস্যা না হয় সেজন্যে শিশু জন্মের আগেই চিকিত্সকের কাছে গিয়ে তার সমস্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করুন এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন।

৩. লিস্টেরিয়োসিস –
খাবারের সাথে লিস্টেরিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া শরীরের ভেতরে প্রবেশ করলে এই রোগটি দেখা দিতে পারে। সাধারনত, অনাগত শিশু, গর্ভবতী মহিলা ও বৃদ্ধদের এ রোগে আক্রান্ত হবার সুযোগ বেশি থাকলেও গড়ে ৬ জন রোগীর ভেতরে ১ জনই গর্ভবতী হিসেবে এই ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের শিকার হন। এ ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করলে জ্বর, অবসাদ ও চুলকানি দেখা দিতে পারে। তবে উপসর্গ এত অল্প হলেও অনাগত শিশুর মৃত্যু ও গর্ভপাত অব্দি ঘটিয়ে ফেলতে পারে লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়া ( সেমিসৌরিয়ান )। আর তাই উপসর্গগুলো দেখা দিলেই চিকিত্সকের কাছে যান আর অ্যান্টিবায়োটিক নিন।

লিখেছেন – সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি
ফিচার রাইটার, প্রিয় লাইফ
তথ্যসুত্রঃ প্রিয়.কম