জেনে নিন কোন মাসে জন্ম নিলে কী ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে

মানুষের জন্ম মাসের সঙ্গে কি তার রোগের সম্পর্ক রয়েছে? ভাবছেন, এ কেমন কথা! এ নিশ্চই অযৌক্তিক বা বুজরুকি ব্যাপারসেপার। মোটেই তা নয়; এটি জ্যোতিষির হাত দেখা বা গ্রহ-নক্ষত্র বিচার করে নয়, রীতিমতো বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফল। চমকাচ্ছেন! সত্যি-ই তাই।১৯৮৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক প্রেসবাইটেরিয়ান হসপিটালে চিকিৎসা নেওয়া ১৫ লাখ রোগীর ওপর গবেষণা চালিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এ সিদ্ধান্তে এসেছেন।

এবার দেখা যাক, কোন মাসে জন্ম নিলে কী ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

জানুয়ারি :
শীতকাল সম্ভবত শিশুদের জন্য সবচেয়ে কঠিন মাস। এ মাসে জন্ম নিলে ওই শিশু ভবিষ্যতে হার্টের সমস্যাসহ উচ্চ রক্তচাপে ভুগবে পারে।

জন্ম তারিখ অনুযায়ী জেনে নিন আপনার ব্যক্তিত্ব বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ফেব্রুয়ারি :
ভালোবাসার মাসে জন্ম! যতই ভালোবাসা থাকুক, ভ্যালেন্টাইন শিশু ভুগতে পারে ফুসফুসের মারাত্মক প্রদাহসহ শ্বাসকষ্টে।

মার্চ :
এ মাসে জন্ম নিলেও হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বড় হয়ে যেসব ব্যক্তি অনিয়মিত হার্টবিটে ভুগছেন, নিশ্চয়ই তাদের জন্ম মার্চ মাসে।

এপ্রিল :
এপ্রিলকে কবি টিএস এলিয়ট নির্মম মাস বলেছেন। তিনি হয়তো যথার্থই বলেছেন। বসন্তের এ মাসে জন্ম নিলে হার্টের সমস্যাসহ বুক ব্যথায় ভুগতে পারেন আপনি।

মে :
এটাই সম্ভবত সবচেয়ে নিরাপদ মাস। কারণ এ মাসে জন্ম নিলে বড় কোনো রোগের সম্ভাবনা থাকে না।

জুন :
বছরের ষষ্ঠতম এ মাসে জন্ম নেওয়া মানে আপনি আক্রান্ত হবেন অ্যাজমা ও বুক ব্যথায়।

জুলাই :
আহা জুলাই! ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এ মাসে জন্ম নেওয়া মানুষেরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকতে পারেন।

আগস্ট :
হে সিংহ রাশির জাতকেরা, কেশর উড়িয়ে দিন। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে সামান্য কিছু সমস্যা আপনাকে মানতেই হবে। আপনি আক্রান্ত হতে পারেন চোখের সমস্যায়। সুতরাং এখনই সাবধান!

সেপ্টেম্বর :
সেপ্টেম্বর সম্ভবত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মাসের তালিকায় রয়েছে। এ মাসে জন্ম নেওয়ারা ভুগবেন, শ্বাসপ্রশ্বাস সংক্রান্ত নানা সমস্যায়, জ্বর, কানের সংক্রমণ, বমিভাব, অ্যাজমা, মানসিক সমস্যাসহ আরও নানাবিধ ছোটখাট সমস্যা হবে আপনার নিত্যসঙ্গী। তবে আশার কথা হলো বড় কোনো প্রাণঘাতী রোগ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে সেপ্টেম্বর মাস।

অক্টোবর :
অক্টোবরে জন্ম নেওয়ারা দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসপ্রশ্বাস ও ফুসফুসের প্রদাহে ভুগে থাকেন। এছাড়া গলা ব্যথা, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, দৃষ্টিশক্তির সসস্যা ও পাকস্থলীর নানা সমস্যায় আক্রান্ত হতে বা ভুগতে  পারেন তারা। নারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রক্তস্রাব ও প্রসবপরবর্তীকালীন বিষাদগ্রস্ততা গ্রাস করতে পারে।

নভেম্বর :
এ মাসে জন্ম নেওয়া নারী-পুরুষ ভাইরাস জনিত নানা রোগের হুমকিতে থাকবেন। এছাড়া ক্ষুদ্রান্ত্র, গর্ভধারণ সমস্যা তো রয়েছেই। নভেম্বরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা ব্যথানাশক ওষুধের প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল থাকেন। ডায়রিয়া ও টনসিলও তাদের ভোগাতে পারে। আরও বড় সমস্যা রয়েছে; তবে এটা মানসিক। কোনো কিছু সহজে শেখার ব্যাপারে আপনি থাকেন দ্বিধাগ্রস্ত।

ডিসেম্বর :
সাবধান! ছুটির এ মাসে জন্ম নেওয়া শিশুদের অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া আবশ্যক। কারণ তাদের নানা ধরনের ফুসকুড়ি হওয়ার প্রবণতা থাকে।

এ গবেষণাকর্ম বাবা-মাকে সচেতনত করে তোলার ক্ষুদ্র প্রয়াশমাত্র। মায়েদের গর্ভকালীন অবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাবার, সুন্দর ও গঠনমূলক চিন্তা শিশুদের সুস্বাস্থ্যের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে। আপনি বিশ্বাস করুণ বা না করুণ, আপনার জন্ম মাসই আপনার স্বাস্থ্য নিরুপণ করবে।

⇒ ভালো লাগলে প্লিজ বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন শেয়ার করতে √ এখানে ক্লিক করুন