নারীর ঋতুস্রাব নিয়ে প্রচলিত যত কুসংস্কার

নারীদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব নিয়েই বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে প্রচলিত ছিল ভয়াবহ সব কুসংস্কার যা এখনো বজায় আছে বহাল তবিয়তে। দেখুন কালের সাথে সাথে কী করে বদলেছে এসব কুসংস্কার ও ভুল ধারণা। বদলে গেলেও মানুষের মধ্য থেকে পিরিয়ড নিয়ে ভয় ও ঘৃণা দূর হয়নি মোটেই। আপনার আশেপাশে এমনকি আপনার পরিবারের পুরুষ এমনকি নারীদের মাঝেও রয়েছে এমনই সব কুসংস্কার।– আজ থেকে দু-হাজার বছর আগে, যাকে বলা হতো Biblical Times, এ সময়ে ইহুদী ধর্মে ৭ দিনের “নিদ্দাহ” প্রথা চালু ছিলো। ঋতু চলাকালীন সময়ে সেই নারীকে এতোটাই অচ্ছুৎ, অস্পৃশ্য মনে করা হতো যে এই পুরো সময়টা তাকে পরিবার থেকে আলাদা হয় একা একা কাটাতে হতো।

– মধ্যযুগীয় সময়ে একজন নারী সারাজীবনে গড়ে ৫০ বার ঋতুস্রাবের মধ্য দিয়ে জেতেন, যেখানে বর্তমান সময়ে নারীরা গড়ে ৪৫০ টি ঋতুস্রাবের  period অভিজ্ঞতা পান। এর কারণ কী? কারণ হলো, সে সময়ে অনেক কম বয়সে নারীদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হতো আর এতো বেশি সন্তান ধারণ ও পালন করতে হতো। গর্ভাবস্থায় ঋতুস্রাব বন্ধ থাকে এবং শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়েও পিরিয়ড কম হয়ে থাকে এ কারণে তাদের পিরিয়ডের সংখ্যা এতো কম হতো।

– রেনেসাঁ যুগে নারীর ঋতুস্রাবের রক্তের প্রতি মানুষের ঘৃণা এবং ভয় এতো বেশি ছিলো যে একে বিষ বলে ধারণা করা হতো। বলা হতো এই বিষ থেকে তৈরি হয় বিষাক্ত বাষ্প এবং তা নারীর মাঝে হিস্টেরিয়ার উদ্রেক করে। এই একই কারণে ঋতুস্রাবের সময়ে নারী বেশি আবেগপ্রবণ হয়। বলা হতো ঋতুস্রাবের  period ফলে শরীর থেকে এই “টক্সিক” রক্ত বের হয় যায়।

– বিংশ শতাব্দীতে এসে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। আঠালো ধরণের প্যাডের উদ্ভাবনের আগে প্রচলিত ছিলো স্যানিটারি বেল্ট। এগুলো বেশীরভাগ সময়েই ছিলো খুব বিরক্তিকর।

– এখনো পর্যন্ত ইন্ডিয়ার কিছু জায়গায় ঋতুস্রাবের প্রতি আছে ভীষণ ট্যাবু। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে কোনো নারী রান্না করলে সেই খাবার খাওয়ার অযোগ্য হয়ে যাবে।

– কিছু কিছু জায়গায় এমনও নিয়ম আছে যে এই সময়টা নারীকে কাটাতে হবে গোয়ালঘরে।