পুরুষ নারীকে কতটা ভালোবাসে বলে দেবে তার হাতের আঙুল!

আপনি একজন নারীর প্রতি ভদ্র, মার্জিত, উদার, কোমল, বন্ধুত্বপূর্ণ, নাকি অভদ্র, রুক্ষ না বদমেজাজি তার জন্য আপনার আঙুলই যথেষ্ট। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীর প্রতি পুরুষ কতোটা মনোযোগী বা অমনোযোগী ও খারাপ হয় তার আঙুলই তা বলে দিতে পারে। সাইন্স ডেইলি জানিয়েছে, যেসব পুরুষ নারীর প্রতি যত্নবান ও বন্ধুত্বপরায়ণ হয় তাদের অনামিকা আঙুল তর্জনি আঙুলের চেয়ে বড় হয়। অবশ্য পুরুষের আঙুলগুলো কোনটা কেমন তা কি মুহূর্তে দেখে নেয়া সম্ভব?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর জন্যও নারীদেরকে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না। খুব সহজে এবং খুব দ্রুত তারা পুরুষের আঙুলগুলো ঠিকমতো দেখেও নিতে পারে। আন্দাজ করে নিতে পারবে আসলে তার হবু পুরুষটি তার প্রতি কেয়ারিং ও সহৃদয়বান হবে কিনা। যদি দেখা যায়, অনামিকা এবং তর্জনি একই পরিমাণ লম্বা তাহলে ধরে নিতে হবে, পুরুষটি বেশ ঝগড়াপ্রবণ, রুক্ষ ও খারাপ স্বভাবের হবে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা কীভাবে বুঝলেন, পুরুষের অনামিক আঙুল তর্জনির চেয়ে লম্বা হলে নারীর প্রতি উদার,

এবং একই মাপের হলে অনুদার ও রুক্ষ? এর আগের গবেষণার সাথে এটি সম্পর্কিত। যাতে হরমোনের মাত্রাগত কারণে আঙুলের দীর্ঘ হওয়াকে নারীর প্রতি মনোযোগী হওয়ার মানদণ্ড হিসেবে দেখা হয়েছে। কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখানো হয়, তর্জনির চেয়ে পুরুষের অনামিকা আঙুল বড় হওয়ার ব্যাপারটি নারী ও পুরুষ হরমোন গ্রহণের মাত্রার সাথে সম্পর্কিত।

আর এই হরমোন মূলত নারীর গর্ভাশয়ে দেখা যায়- কোনো পুরুষ তার জন্ম হওয়ার প্রক্রিয়ার সময় এই নারী হরমোন দ্বারা যখন প্রভাবিত হয় আর তার ফলেই তখন তার অনামিকা আঙুল তুলনামূলকভাবে তর্জনির চেয়ে বড় হয়। তবে যদি নারীর গর্ভাশয়ের হরমোন দ্বারা মানে নারীর হরমোন দ্বারা প্রভাবিত না হয় তাহলে তার মধ্যে পুরুষ হরমোন যেটাকে টেস্টোস্টেরন হরমোন বলা হয়- তার দ্বারা প্রভাবিত হয়। যে কারণে পুরুষ হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় তার তর্জনি ও অনামিকা একই মাপের লম্বা হয়। পুরুষ হরমোন যেহেতু রুক্ষ ও কঠিন সেকারণে এই হরমোন দ্বারা প্রভাবিত আঙুলের গড়ন

একই মাপের হওয়া পুরুষকে রুক্ষ ও কঠিন স্বভাবের বলে বিবেচনা করা হয়। আর নারীর হরমোন তুলনামূলকভাবে কোমল ও সংবেদনশীল হওয়ায় তা দ্বারা প্রভাবিত পুরুষ প্রাকৃতিকভাবেই নারীর প্রতি মনোযোগী। শুধু নারীর প্রতিই নয়, যেকোনো মানুষের প্রতিই তুলনামূলক বেশি নারী হরমোন দ্বারা প্রভাবিত পুরুষরা বেশি মনোযোগী হন। গবেষণা দলের প্রধান মনোবিজ্ঞানী প্রফেসর ডেবি মস্কোইতজ বলেন, এধরনের পুরুষ যখন নারীর সাথে থাকেন তখন তারা খুব মনোযোগী হন, হাসি খুশি থাকেন। এমনকি অন্যদের প্রতিও তারা আপোসকামী হন এবং কৃতজ্ঞ হন।