‘ব্ল্যাক হেডস’ দূর করুন ঘরোয়া ৭টি উপায়ে

নাকের উপর আর ঠোঁটের নীচে থুতনির উপরের অংশে ব্ল্যাক হেডসের সমস্যায় কম বেশি সবাইকেই ভুগতে হয়। সাধারণত মুখের এবং নাকের উপর ব্ল্যাকহেডস হলেও অনেকের ক্ষেত্রে কানে এমনকি শরীরের বিভিন্নস্থানে ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।


শরীরে হরমোন পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা হয়। ব্ল্যাক হেডস একটি বেয়ারা সমস্যাই বলা চলে। কারণ এটি স্থায়ীভাবে দূর করা কখনও সম্ভব হয় না। নিয়মিত পরিষ্কার করার পরও এই সমস্যা ফিরে আসতে পারে। তাই প্রতিদিন পরিচর্যা করা জরুরি। ঘরে পাওয়া যায় এমনই কিছু সহজলভ্য উপাদান দিয়ে সহজেই ব্ল্যাক হেডস দূর করা সম্ভব।

এখানে এমনই কিছু উপাদানের নাম উল্লেখ করা হল।

বেকিং সোডা:
মুখে ময়লা জমেও ব্ল্যাক হেডস হতে পারে। বেকিং সোডা ত্বক ভিতর থেকে পরিষ্কার করে ব্ল্যাক হেডস দূর করতে সাহায্য করে।

দুই টেবিল-চামচ বেকিং সোডা পানিতে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। ত্বকের যেখানে ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা আছে সেখানে এই পেস্ট লাগিয়ে হালকা হাতে মাসাজ করতে হবে। কিছুটা শুকিয়ে আসলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দু্ই থেকে তিনদিন এটি ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে।

দারুচিনি:
ব্ল্যাক হেডস দূর করে এবং পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা কমায় দারুচিনি।

মধুর সঙ্গে ১ চা-চামচ দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে এই পেস্ট আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ঘুমাতে হবে। সকালে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। টানা ১০ দিন ব্যবহারেই ভালো ফল পাওয়া যাবে।

তাছাড়া এক চিমটি হলুদের সঙ্গে দারুচিনির গুঁড়া লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে ত্বক পরিষ্কার করা যেতে পারে।

ওটমিল:
ওটমিল এবং দইয়ের মিশ্রণ ত্বক সুন্দর রাখতে দারুণ উপকারী।

তাছাড়া চারটি টমেটোর রস, এক চামচ মধু সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওটমিল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এটি ত্বক স্ক্রাব করা জন্য ব্যবহার করতে হবে। স্ক্রাব করার পর ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি প্রতিদিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

এছাড়া দুই টেবিল-চামচ ওটমিলের সঙ্গে দই, লেবুর রস এবং অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। হালকা শুকিয়ে আসলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

লেবুর রস:
লেবুর রস ব্রন দূর করতে এবং ব্ল্যাক হেডস দূর করতে সাহায্য করে। লেবুর রস প্রায় সব ধরনের ত্বকের জন্য সমান উপকারী।

লেবুর রসের সঙ্গে লবণ, দই এবং মধু মিশিয়ে একটি স্ক্রাব তৈরি করা যেতে পারে। এটি এক্সফলিয়েটর হিসেবে কাজ করবে।

লেবুর রসের সঙ্গে দুধ বা গোলাপজল মিশিয়ে ফেইশল ক্লিনার তৈরি করা যায়। ১০ থেকে ১২ দিন টানা ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়।

গ্রিন টি:
এক টেবিল-চামচ শুকনা গ্রিন টি’র পাতা সামান্য পানির সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা আছে যেখানে, সেখানে এই মিশ্রণ দিয়ে তিন মিনিট ম্যাসাজ করতে হবে। এই পেস্ট ত্বক পরিষ্কার করে, ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে। হালকা গরম পানি দিয়ে এরপর মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

মধু:
মধু ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে ত্বক ভিতর থেকে পরিষ্কার করে। ত্বককে টানটান রাখে এবং ব্ল্যাক হেডস দূর করে। পুরো মুখে খানিকটা মধু লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

হলুদ:
পুদিনা পাতার রসের সঙ্গে সামান্য হলুদ মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে পেস্টটি লাগিয়ে রাখতে হবে। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

তাছাড়া লাল চন্দনের সঙ্গে হলুদ এবং দুধ মিশিয়ে এককটি ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এটি মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর হালকা শুকিয়ে আসলে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেললেই ত্বক পরিষ্কার হয়ে যাবে।

* সবগুলো নয়, যে কোনও একটা বা দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। যে পদ্ধতিই অনুসরণ করুন না কেন, টানা ১০ থেকে ১২দিন ব্যবহার করুন বা ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা দূর না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যান।