মেকআপে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলুন

shajghor_makupনিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে মেকআপ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেকআপ করার আগে কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখা উচিত। না হলে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে। আসুন জেনে নেওয়া যাক মেকআপের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো।

প্রথমে ভালো ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে শুকনো করে মুছে নেওয়ার পর টোনার ব্যবহার শুরু করবেন। মেকআপের প্রথম ধাপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিজের ত্বকের সঙ্গে মিল রেখে মেকআপ বেছে নেওয়া। ত্বকে যদি কখনো কোনো সমস্যা থাকে কিংবা ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যতিক্রম ঘটে, তবে ক্রিম বা লিকুইড বেজ ব্যবহারে সমস্যা হওয়ার কথা। এ ছাড়া ত্বকের যত্ন যথাযথ ভাবে নিলে ক্রিম বা লিকুইড বেজ ব্যবহারে আপনার সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বিশেষ করে ক্লিঞ্জিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজারের রুটিন মেনে চলা জরুরি। বেজ মেকআপের সময় একটি কথা মনে রাখা দরকার, যদি কোথাও কোনো সূক্ষ্ম রেখা কিংবা এমন কোনো দাগ থাকে যা ঢেকে দেওয়াই ভালো, তবে ফাউন্ডেশনের পর কনসুলার ব্যবহার করে ঢেকে দিতে পারেন। নিজের ত্বক থেকে এক শ্যাড হালকা কনসুলার ব্যবহার করলে এই খুঁত ঢেকে রাখার ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। হালকা থাম্পেট বুলিয়ে মুখে মেট ফিনিশ আনার চেষ্টা করাই ভালো।

ফেস মেকআপের পর আই মেকআপের পালা চলে আসে। যদি চোখের কোণে কালি থাকে তবে তিন ফোঁটা কনসুলার চোখের ঠিক তলায় দিয়ে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ব্ল্যান্ড করে দিন। চোখের ডাইমেনশন আনার জন্য লাইট মিডিয়াম কিংবা ডার্ক শ্যাডের আইশ্যাডো হাতের কাছে রাখতে পারেন। চোখের আকৃতি অনুযায়ী আইশ্যাডো লাগান। এরপর লাগান আইলাইনার এবং সবশেষে মাসকারা।

মনে রাখবেন যথার্থ মেকআপে মানে হচ্ছে আপনার ত্বকের রং অনুযায়ী কিংবা ত্বকের ধরনকে সমর্থন করে এমন রং নির্বাচন করা। যাদের গায়ের রং ফর্সা তারা গাঢ় উগ্র রঙের বদলে সফট টোন বা পেস্টেল শ্যাড বেছে নিতে পারেন। আই মেকআপের জন্য ব্লু বা ল্যাভেন্ডার শ্যাডও মানানসই হবে। পিংক বেজ বা পিংকের নানা শ্যাডের ব্লাশ এবং লিপস্টিক ফেয়ার কম্পোলেশনের জন্য আইডিয়াল। মাসকারার রং হওয়া চাই কালো বা ব্রাউন। অন্যদিকে যারা কিছুটা শ্যামবর্ণ তারা ফাউন্ডেশন নেওয়ার সময় যতটা সম্ভব নিজের স্বাভাবিক গায়ের রঙের কাছাকাছি শ্যাড নির্বাচন করুন। অনেকেই একটু উজ্জ্বল রং পছন্দ করেন। সে ক্ষেত্রে নিজেকে আরও বেশি যতœ করে সাজানোর চেষ্টা করুন। কম্পেক্টের বদলে বেবি পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।

ফাউন্ডেশন:
বোতলে ফাউন্ডেশনের রং খানিকটা গাঢ় দেখায়। তাই কেনার সময় ত্বকের সঙ্গে যে ফাউন্ডেশনের রং মানানসই হয় তা বেছে নিতে হয়। পছন্দসই ফাউন্ডেশন ট্রাই করতে হয় জো লাইনের ওপর, ফাউন্ডেশনের রং ঠিকমতো বুঝতে পারা যায় জো লাইনে খুব ডলে ফাউন্ডেশনটি মেশানো হলে। মনে রাখতে হবে, ঘাড়ের চেয়ে মুখের রঙ হালকা হয়। তাই হালকা এবং গাঢ় দু রকমের মেকআপই বেছে নেওয়া উচিত। হালকা রং ত্বককে উজ্জ্বল করবে, গাঢ় রং নানা জায়গায় শ্যাডিং হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেছে নিন অয়েলফ্রি লিকুইড ফাউন্ডেশন। এর সেলিসেলিস অ্যাসিড লোমকূপের গোড়াকে শক্ত রেখে ব্রন কমাতে সাহায্য করে। কখনো কখনো ব্যবহার করতে পারেন মেকআপ ব্যাজ ফাউন্ডেশন পাউডার। মুখের অতিরিক্ত চকচক ভাব দূর করবে এটি। শুষ্ক ত্বকের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে ঘন ফাউন্ডেশন, যা ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখবে এবং একই সঙ্গে অনুজ্জ্বল হালকা ভাজ পড়েছে এমন ত্বকের জন্য বেছে নিতে পারেন ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ ফাউন্ডেশন। দাগ-ছোপহীন সমস্যামুক্ত ত্বকের জন্য লাইটটাচ লিকুইড ফাউন্ডেশন একটি যথার্থ উপকরণ। বলিরেখাযুক্ত ত্বকের জন্য পেপটাইটস ভিটামিনসমেত হাইড্রেটিং ফিম বা লাইটওয়েট লিকুইড ফাউন্ডেশন পাওয়া যায়। ফাউন্ডেশন লাগানোর পর ফ্রেশ ব্রাশ দিয়ে হালকা পাউডার লাগাবেন মুখে।

মডেলঃ ফারহানা আক্তার শান্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *