যেসব খাবার ফ্রিজে রাখা উচিৎ না

গরমে খাবার অবশ্যই ফ্রিজে রাখতে হয়। কারন অতিরিক্ত গরমে খাবার নষ্ট হয়ে যায়।  তবে এমন কিছু খাবার রয়েছে যা ফ্রিজে রাখা উচিৎ নয়। তাহলে দেরি না করে আসুন জেনে নিই কোন খাবার গুলো ফ্রিজে রাখা উচিৎ না।

পাউরুটি:
পাউরুটি কেনার কিছুদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। কিন্তু পাউরুটি ফ্রিজে রাখলে এটিকে শক্ত হয়ে যায়। আপনি যদি পাউরুটি বাইরে রাখেন তাহলে আপনি এটি ৪ ঘন্টা পর্যন্ত খেতে পারবেন। ফ্রিজে রাখলে তা কিছুক্ষণের মধ্যে এর নরম ভাব নষ্ট করে ফেলে। এক্ষেত্রে আপনি পাউরুটিটাকে পুনরায় খাওয়ার আগে টোস্ট করে নিতে পারেন।

মধু:
মধুকে সংরক্ষণ করতে চাইলে তা ফ্রিজে রাখার পরিবর্তে বাইরে ঠান্ডা জায়গায় রাখতে পারেন। বাহিরে ঢাকনা ভালোভাবে লাগিয়ে রাখলে মধু অনেকদিন ভালো থাকে। ফ্রিজে রাখলে মধুর ভিতরে দানা বাঁধতে পারে।

কফি:
কফিকে ফ্রিজে রাখলে এটির গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। কফির গন্ধ চলে যায়। এর পরিবর্তে এক ধরণের দুর্গন্ধ তৈরি হয়। তাই কফিকে সংরক্ষণ করতে চাইলে ঠান্ডা শুষ্ক স্থানে রাখুন।

পেঁয়াজ:
যদি আপনি ফ্রিজের অতিরিক্ত তাপমাত্রায় পেঁয়াজকে সংরক্ষণ করেন তাহলে এর সকল গুণাগূণ নষ্ট হয়ে যাবে। এটি নরম আর স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যাবে। পেঁয়াজকে ফ্রিজে না রেখে শুকনা জায়গায় রাখুন। এতে পেঁয়াজ সতেজ থাকবে এবং এর গুণাগুণও নষ্ট হবে না।

আদা:
যদিও আদা ফ্রিজের অতিরিক্ত কম তাপমাত্রাতেও অঙ্কুরিত হতে সক্ষম। তারপরও আদা ফ্রিজে রাখলে স্যাঁতস্যাঁতে ও নরম হয়ে যায়। এর পরিবর্তে আদা শুষ্ক ও ঠান্ডা জায়গায় রাখলেই ভালো থাকে।

টমেটো:
টমেটো এমন একটি সবজি যার অনেক গুণাগুণ রয়েছে। এই সবজিটি কাঁচা খেলে দেহের ভিটামিন ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে। আবার বিভিন্ন তরকারিতে দিলে তরকারির স্বাদে পরিবর্তন আনে। এই সবজিটি যদি ফ্রিজে রাখা হয় তাহলে এর গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এর গন্ধ নষ্ট হয়ে যায়। ফ্রিজের ঠান্ডা বাতাস এর পাকানোর প্রক্রিয়াকে নষ্ট করে ফেলে। এর আকারেরও পরিবর্তন আনে। ভেতরের ঝিল্লি ভেঙ্গে ফেলে। এসব কারণে ফ্রিজে টমেটো রাখা উচিৎ না।

তুলসী:
তুলসী পাতা ফ্রিজে রাখলে তা দ্রুত তাজা ভাব হারিয়ে ফেলে। এটি ফ্রিজের সব খাবারের গন্ধ শুষে নেয়। এর চেয়ে তুলসী পাতা বাহিরে রাখাই শ্রেয়। আমরা যেভাবে একটা টবে বা কাপে পানি দিয়ে ফুল ডুবিয়ে রাখি ঠিক সেভাবে তুলসী পাতাকে রাখা যেতে পারে। এতে এর সতেজতা ফিরে আসবে।

আলু:
ফ্রিজে আলু রাখলে ফ্রিজের ঠান্ডা বাতাস আলুর শর্করার গুণাগুণ নষ্ট কওে দেয়, আলুতে যে মিষ্টি ভাবটা থাকে তা শুষে নেয়। এর ফলে আলুর স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। একটু বালু বালু ধরণের স্বাদ চলে আসে। এর চেয়ে আলুকে একটি কাগজে করে ফ্রিজের ঠান্ডা বাতাসে নয় বাইরের ঠান্ডা বাতাসে রেখে দিতে পারেন। একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় আলুকে সংরক্ষণ করা যেতে পাওে তবে ফ্রিজের অতিরিক্ত ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় নয়।

অ্যাভোকাডো:
আপনি যদি অ্যাভোকাডো পাকাতে চান তাহলে এটিকে কোনোভাবেই ফ্রিজে রাখবেন না। তবে আপনি যদি পাকা অ্যাভোকাডোই কিনে থাকেন তাহলে আপনি এটি ফ্রিজে রাখতে পারেন।

অলিভ অয়েল:
অলিভ অয়েল অন্ধকারাচ্ছন্ন একটা ঠান্ডা পরিবেশে সংরক্ষণ করতে পারেন কিন্তু কখনই তা ফ্রিজের বেশি ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় রাখা উচিৎ না। কেননা ফ্রিজে এটা আরও বেশি ঘনীভূত হয়ে পড়ে। ফ্রিজের ঠান্ডা বাতাসে এটি মাখনের মত জমে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *