লম্বা ও ঘন চুলের জন্য ওয়াইল্ড গ্রোথ হেয়ার অয়েল

আজকের আয়োজন যে প্রোডাক্ট নিয়ে সেটা একটা হেয়ার অয়েল। নিশ্চয়ই ভাবছেন, ‘আবার কেন? বাজারের সব হেয়ার ওয়েল তো একবার ট্রাই করেই ফেলেছি!’ কিন্তু তারপরও কি জানতে চান এই তেলটা চূল পড়া কমাতে আর চুলের দৈর্ঘ্য বাড়াতে আসলে কেমন কাজ করবে? জানতে চাইলে চলুন দেখে নেই আর্টিকেলে।shajghor_Hair Oilআমি বেশ আগেই লক্ষ্য করেছিলাম বেশ কিছু পপুলার অনলাইন ম্যাগাজিনেই এই তেলের গুণগান।বেশীরভাগ অ্যাডেই বলা হচ্ছিলো এই পার্টীকূলার তেল নাকি চূল লম্বা হবার হার অবিশ্বাস্য ভাবে বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া এটা নিয়মিত চোখের পাতায় আর ভ্রূতে ব্যাবহার করলে নাকি চোখের পাপড়ি আর ভ্রূ ঘন আর কালো হয়। বিভিন্ন রিভিউ পড়ে আমি ধরেই নিয়েছিলাম, যেসব নারীরা এটা ব্যাবহার করে ভালো ফল পেয়েছেন তার আসল কারণ নিশ্চয়ই চুলের সঠিক যত্ন নেয়া, আর কিছুই না। বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ক্লেইম পড়ে তা সত্যি কিনা পরীক্ষা করে দেখাটাই আসলে এই তেলটা কেনার কারণ। তাছাড়া amazon.com এর রিভিউতেও দেখলাম এই তেলের অনেক ভালো রিভিউ।

কিভাবে ব্যাবহার করবেন?
এই তেলটা অন্যান্য তেলের চেয়ে বেশ ভারী আর ঘন। এটা শুধু মাথার ত্বকে ঘষে ঘষে লাগান। পুরো চুলে লাগাবার দরকার নেই। এছাড়া চোখের পাপড়ি আর ভ্রূতেও রাতে শোবার আগে ব্যাবহার করতে পারেন।

আমার অভিজ্ঞতা –
যখন থেকে আমি প্রথম এই তেলটা ব্যাবহার করা শুরু করেছি তখন থেকেই আমি চুলের গ্রোথের হিসাব রাখা শুরু করি। আসলেই তেলটা কাজ করছে কিনা বোঝার জন্য। তেলটা বেশ ঘন হওয়ায় এটা বেশ সময় নিয়ে মাথায় লাগাতে হয়। আমি প্রতি রাতে শোবার আগে মাথায় তেল লাগাই আর পরদিন সকালে বা দুপুরে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলি।এটা বেশ সহজেই শ্যাম্পুর সাথে চূল থেকে উঠে যায়। আর চূল শুকিয়ে যাবার পর বেশ সফট আর সিল্কি লাগে। এটার সাথে কোন উপাদানের লিস্ট নেই, যেটা আমাকে একটু অবাক করেছে। উপাদানের লিস্ট থাকাটা যেকোনো কসমেটিক্সের জন্যই খুবই জরুরী।

ফ্যাক্ট :
স্বাস্থ্যবান মানুষের চূল প্রতি মাসে ১/২ ইঞ্চি করে বাড়ে, আর এক বছরে বাড়ে ৬ ইঞ্চি।

দিন ১ –

তেল টা কিনে প্রথম বার ব্যাবহার করি। এটা অতিরিক্ত ঘন হবার কারণে প্রথম বার শ্যাম্পু করার সময় একটু বেশি শ্যাম্পু লাগে। চূল ধোয়ার পর চূল অনেক ঝরঝরে আর সফট হয়।

দিন ৬ –

চুলের টেক্সচার আগের থেকে অনেক বেশি ভালো হয়ে গেছে। চুলের কার্লি ভাবও কমেছে। আর চূল আগের থেকে অনেক ঘন লাগছে। আমি বলছি না যে মাত্র ছয় দিনে আমার মাথা নতুন চুলে ভরে গেছে কিন্তু চূল বেশ ভারী আর স্বাস্থ্যবান একটা লূক দিচ্ছে। আর নিষ্প্রাণ লাগছে না।

দিন ১৬ –

আধামাস ব্যাবহার করার পর। চুলের দৈর্ঘ্য বেশ কেয়ারফুলি মাপলাম। চূল প্রায় ১/৩ ইঞ্চি লম্বা হয়েছে। যা অবশ্যই সাধারণ গ্রোথ রেট থেকে বেশি। আশা করি আরও বেশ কয়েক মাস ব্যাবহার করলে চূল আরও দ্রুত বাড়বে, আর আমি লম্বা ঘন চূল পাবো।

তো নিজের চোখেই দেখে নিলাম ওয়াইল্ড গ্রোথ হেয়ার অয়েল চূল লম্বা করতে আসলে কতোটুকু পারদর্শী। এটা যে শুধু চূল লম্বা করে তাই ই না এটা চূল পড়া, ড্যামেজ হওয়ার হার কমিয়ে চুলের সার্বিক স্বাস্থ্য বজায় রাখে। যে কারণে চুলের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়।

এই প্রোডাক্টের যে দিক গুলো আমার পছন্দ হয়েছে –

– এটা আসলেই চুলের বৃদ্ধির হার বাড়ায়।

– চূল পড়া আর ড্যামেজ কমায়।

– এক বোতল তেল অনেক দিন চলে।

– নিয়মিত ব্যাবহারে চোখের পাপড়ি আর ভ্রূ ঊল্লেখ যোগ্য হারে ঘন হয়।

এই প্রোডাক্টের যে দিক গুলো আমার পছন্দ হয়নি –

– তেলটা একটু ঘন। শ্যাম্পু করতে সামান্য কষ্ট হতে পারে।

তো দেখলেন তো? ওয়াইল্ড গ্রোথ হেয়ার অয়েল আসলেই চূল পড়ার হার কমিয়ে আপনাকে আপনার মনের মত লম্বা সুন্দর চূল দিতে পারে কিনা? আমার মতে আপনি যদি চান আপনার চূল তাড়াতাড়ি লম্বা হোক আর একী সাথে হোক মসৃণ আর ড্যামেজ ফ্রি তাহলে একবার এই প্রোডাক্ট টা ট্রাই করে দেখতেই পারেন।

গ্রোথ অয়েল কোথায় পাবেন –
অর্ডার করে Amazon.com থেকে আনতে পারেন। তাছাড়া দেশে যমুনা ফিউচার পার্কের ‘SAPPHIRE’ এ পেয়ে যাবেন। এছাড়া ঘরে বসে পেতে চাইলে তাদের পেজ এ খোঁজ করতে পারেন।

দাম কেমন হবে?
এর দাম পড়বে প্রায় ১৩০০ টাকা। যেহেতু এটা শুধু মাথার ত্বকে ব্যাবহার করতে হয়, পুরো চুলে নয় তাই এটা অনেকদিন চলে। যে কারণে আপনার খরচ টা অতিরিক্ত হবে না।

লিখেছেনঃ মীম তাবাচ্ছুম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *