“আমার শখের বনসাই”

আমার শখের বনসাই। বন শব্দের অর্থ ছোট পাত্র এবং সাই শব্দের অর্থ গাছ। অর্থাৎ বনসাই মানে দাঁড়াচ্ছে, ছোট পাত্রে গাছ। প্রাচীন চীনা শব্দ ‘পেনজাই’ থেকে জাপানী ‘বনসাই’ শব্দের উৎপত্তি। বনসাই এর পারিভাষিক অর্থ জীবন্ত ভাস্কর্য। শহুরে মানুষকে প্রকৃতির ছোঁয়া দিতে বনসাই হতে পারে একটি বিকল্প শিল্প। সে কারণেই ড্রয়িং রুম, অফিস রুম, বেলকনি, বাসার ছাদসহ বিভিন্ন শো প্লেসে বনসাই নাগরিক জীবনকে দিচ্ছে প্রকৃতির ছোঁয়া।

বনসাই একটি সৃষ্টিশীল কাজ। এর মাধ্যমে আনন্দ পাওয়া যায়। বনসাই করতে হলে শ্রম দিতে হবে। এর সাথে সব সময় লেগে থাকতে হবে। বনসাই যেমন কঠিন আবার তেমনি সহজ। এ শিল্পের সাথে জড়িয়ে হতে পারে আপনার শখের পেশা। আকর্ষণীয় উপহার হতে পারে বনসাই।

বনসাই এর ইতিহাস বহু পুরানো ।ধারণা করা হয় প্রায় ২০০০ বৎসর পূর্বে চীনে এর শুরু হয় এবং পরবর্তীতে চীনের অন্যান্য অঞ্চল, জাপান, কোরিয়া ও ভিয়েতনামে বিস্তৃতি লাভ করে । বাংলাদেশেও এখন উন্নত মানের বনসাই কালচার চালু রয়েছে এখন এসব বিদেশেও যায় ।বনসাইয়ের বয়স ৩-৪ বছর হলে বাছাই করা মোটা শাখাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটতে হবে।শাখাকে সুন্দর, ভঙ্গিমায় আনতে যেসব কৃত্রিম উপায় অবলম্বন করা হয় “তার বাঁধা” তাদের মধ্যে অন্যতম। সরল শাখায় তার জড়িয়ে আঁকাবাঁকা রূপ দেয়া যায়।

বাংলাদেশে বনসাই করা যেতে পারে এমন গাছগুলো হল: বট,জাম্বুরা,কমলা,তুলশী,বহেরা ,বরই ,কামিনী, মেহেদী,কড়ই, অর্জুন, জামরুল, করমচা, লুকলুকি, বকুল, শিমুল, তেতুল, বাবলা, পলাশ, বেল, হিজল, জাম, নিম, গাব, পেয়ারা, ডালিম,কৃষ্ণচূড়া, কদবেল, হরিতকি, কামরাঙা, আমলকি, বাবলা, গোলাপজাম, পাথরকুচি, সাদা নয়নতারা, স্টার কুইন, বাগান বিলাস, ক্যাকটাস, পাতাবাহার, চায়না বাঁশ ইত্যাদী।

লিখেছেনঃ এফ এম আমান উল্লাহ আমান – গাজীপুর থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *