শেভ করলে কি শরীরের অবাঞ্ছিত লোম বৃদ্ধি পায়?

শরীরের নানা অংশে জন্মানো অবাঞ্চিত লোমগুলো নিয়ে বেশ ঝামেলায় থাকেন অনেকে। সমস্যায় ফেলে দেয় হাত-পায়ের বড় বড় বিচ্ছিরি পশমগুলোও। কেটে বাদ দিয়ে দেবেন কিংবা একটু শেভ করবেন?


কিছু দিনের ভেতরেই আরো শক্তিশালী, ঘন আর মজবুত হয়ে দ্বিগুন পরিমাণে জন্ম নেবে সেই অবাঞ্চিত লোম আর পশমগুলো। অন্তত এই সমস্যার ভুক্তোভোগীরা ঠিক এটাই বলে থাকেন। কিন্তু বাস্তবে কিন্তু শেভ করলে মোটেই মজবুত বা দ্বিগুন হয়ে যায়না লোম (সাইন্টিফিক আমেরিকা )।

প্রথমেই আসা যাক লোমের মজবুত হওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে। এ ব্যাপারে বুঝতে গেলে প্রথমেই জানতে হবে লোমের স্তরগুলো সম্পর্কে। লোম বা পশমের পুরো অংশের একটা বড় ভাগটাই থাকে ত্বকের নীচে। আর সেটাই হয় সবচাইতে বেশি শক্ত এবং মজবুত। অবাঞ্চিত লোমগুলো Unwanted hair শেভ করার মাধ্যমে তাই সবসময় উপরের নরম অংশটুকু কেটে ফেলে নীচের শক্ত অংশটুকুই বাইরে বের করে ফেলেন আপনি। ফলে তখনকার জন্যে সেটাকে আগের চাইতে একটু বেশিই মজবুত আর শক্ত বলে মনে হয়।

অন্যভাবে বলতে গেলে শেভ করার পর আপনার শরীরের অবাঞ্চিত লোম ছোট হয়ে যায়। লোম যত বড় হয় ততই নরম হয়। কিন্তু ছোট হয়ে গেলে সেটা অবশ্যই শক্ত হয়ে যায়। এছাড়াও লোমে ঢাকা আপনার ত্বকটি এতদিন চোখে না পড়লেও শেভ করার পর সেটা পুরোপুরি পরিস্কারভাবে দেখা যায়। এতে করে সেই অংশটির ওপরে থাকা ছেঁটে ফেরা অবাঞ্চিত লোমের গোড়াগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে ত্বকে। এতসব কারণেই সাধারনত শেভ করার ফলে স্থানটিতে লোমগুলো মজবুত আর কালো হয়ে উঠেছে মনে হয়।

শেভ করার ফলে চুলের পরিমাণ বা বৃদ্ধি বাড়ে কিনা সেটা নিয়ে মূলত পরীক্ষাও করেছেন বিজ্ঞানীরা। ১৯২৮ সালে জার্নাল অ্যানাটমিকাল রেকর্ডে প্রকাশিত একটি গবেষনায় ফরেনসিক অ্যানথ্রপলজিস্ট মিলড্রেড ট্রটার জানান যে, শেভ করার ফলে চুলের কোনরকম রং, আকৃতি বা বৃদ্ধির পরিমাণ পরিবর্তিত হয়না ( লাইভ সায়েন্স )।

সম্প্রতি জার্নাল অব ইনভেস্টিগেশন ডারমেটোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষনা অনুসারে, শেভ করাকে কোন নির্দিষ্ট স্থানের চুলের আকার বা আয়তনের পরিবর্তন কিংবা পরিমাণ বৃদ্ধির জন্যে দোষারোপ করা যায়না। আসলে ত্বকের নীচে থাকা একধরনের হেয়ার ফলিসেলের কারণেই চুল বৃদ্ধি পায়। এটিই চুল কেমন হবে, কতটা বৃদ্ধি পাবে বা শক্ত হবে সেটা ঠিক করে দেয়। যেটা কিনা শেভ করার দ্বারা কোনরকম ক্ষতিগ্রস্ত বা প্রভাবিত হয়না ( টুডে আই ফাউন্ড )।

তবে অনেকসময় আমাদের আগে থেকেই করে রাখা ধারণা এই চুলের বাড়তি পরিমাণ বা অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে মানসিক গঠনকে প্রভাবিত করে। ফলে কোনকিছু না হলেও শেভ করা স্থানটিতে যথেষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করি আমরা। যেটা কিনা একেবারেই অমূলক! আর তাই নিশ্চিন্ত থাকুন এখন থেকে আর শেভ করে খুব সহজেই দূর করে ফেলুন বাড়তি ঝামেলা।

লিখেছেন – সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি
ফিচার রাইটার, প্রিয় লাইফ
তথ্যসুত্রঃ প্রিয়.কম