সন্তান জন্মদানের পর মায়ের যত্ন-আত্তি

একজন নতুন মায়ের স্বাভাবিক বা অস্ত্রোপচার (সিজারিয়ান ডেলিভারি) যেভাবেই ডেলিভারি হোকনা কেন নবজাতক শিশুটির যেমন যত্ন দরকার, সে রকম নতুন মায়েরও যত্ন নেয়া বিশেষ প্রয়োজন। সন্তান জন্মদানের পরে মায়ের দরকার বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার—যা মা ও শিশু দুজনের জীবনকেই নিরাপদ করে তুলবে।

যত্নের প্রয়োজনীয় বিষয় সমূহঃ-

সন্তান জন্মের পর মায়ের নিরিবিলিতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। এ সময় বেশি লোকের আনাগোনা না থাকাই ভালো।

অস্ত্রোপচার বা সিজারিয়ান ডেলিভারির পরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিলে (অন্তত এক সপ্তাহ) হঠাৎ করে ভয়ংকর মাথা, ঘাড়ে ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা ও বমি বমি ভাব হতে পারে। তখন প্রচুর পরিমাণ পানি পান, বিশ্রাম, রাতে সঠিকভাবে ঘুম, কম কথা বলা, দুশ্চিন্তা না করা ও তুলনামূলকভাবে নিচু বালিশে শুতে হবে। মা যেন এই পরিবেশ পান, তা পরিবারের সদস্যদের নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাভাবিক ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মা হওয়ার পরে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। মায়ের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি তার ব্যবহার্য জিনিসপত্রও পরিষ্কার করতে হবে। সন্তান জন্মের আগে ও পরে মায়ের হাত-পায়ের নখ ছোট করে কাটতে হবে।

মাকে কালোজিরা, লাউ, ডাবের পানি, পাতলা করে রান্না করা ডালের পানি ও স্যুপ খাওয়াতে হবে। এটি বুকের দুধ উৎপাদনের জন্য জরুরি। তবে যেসব মায়ের গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের সময়ে ডায়াবেটিস ছিল, তারা অবশ্যই মিষ্টি খাবার বর্জন করুন এবং নিয়মিত ব্লাড সুগার চেক করবেন। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়মিত চেক করবেন। আর ওষুধ খেতে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না।

হাসপাতাল ও বাড়িতে মায়ের ও নবজাতকের জন্য যারা থাকবেন, খেয়াল রাখুন তাদের যেন কোনো ছোঁয়াচে রোগ (যেমন: জন্ডিস, দাদ বা ছোঁয়াচে চর্ম রোগ, চোখ ওঠা, বসন্ত, টাইফয়েড, জ্বর, বসন্ত, হাঁচি, কাশি) না থাকে। সম্ভব হলে বাসার মেঝে, মা ও সন্তানের কাপড়ে নিয়মিত জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন।

সন্তানকে হাসপাতালে মায়ের কাছে দেওয়ার পর থেকেই চেষ্টা করতে হবে বুকের দুধ পান করানোর জন্য। জন্মের পরপরই দুধ আসে না, তার পরও খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে। এতে মায়ের বুকে দুধ উৎপাদন বাড়বে এবং নবজাতকের অভ্যাস হবে। ল্যাকটেটিং অন্তর্বাস পরতে পারেন। বুকের দুধ বারবার সন্তানকে খাওয়াতে সুবিধা হবে। দুধ বেশি জমলে হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে তাপ দিতে পারেন।

সন্তান জন্মের দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত দৈহিক সম্পর্ক বন্ধ রাখুন। দেড় মাস পর থেকে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিতে হবে।
আর মা হওয়ার পরে ওজন ধীরে ধীরে কমিয়ে আনুন। অল্প অল্প করে হাঁটার পরিমাণ বাড়ান। ছয় মাস ভারী কাজ করবেন না। সম্ভব হলে ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করুন। উঁচু হিল না পরে ফ্ল্যাট স্যান্ডেল পরুন। একবারে চার বা পাঁচতলা সিঁড়ি দিয়ে উঠবেন না। হালকা টক ফল খাবেন, যা মায়ের কাটা স্থান শুকাতে সাহায্য করবে।
গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের পরে অবশ্যই আয়রন ও ক্যালসিয়াম ওষুধ খেতে হবে (এক মাস বা তার বেশি)। পেটে বেল্ট ব্যবহার করুন। এতে পেটের গঠন ঠিক হবে।

বিঃ দ্রঃ আবারো বলছি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না। কারণ অনেক ওষুধ দুধের মাধ্যমে নবজাতকের দেহে পৌঁছায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *