স্থায়ীভাবে সোজা চুল পেতে হেয়ার রিবন্ডিং

যাদের চুল কোঁকড়া, কিংবা একটু ঢেউ খেলানো, হাল ফ্যাশনের সোজা চুল পাওয়া নিয়ে তাদের চিন্তার শেষ নেই। অনেকে আয়রন করে চুল স্ট্রেইট করেন বটে, কিন্তু চুল ধুলে বা শ্যাম্পু করলেই সোজা চুল আর থাকছে না। এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে যে আধুনিক সৌন্দর্যচর্চার পদ্ধতি আছে তাকে বলা হয় হেয়ার রিবন্ডিং । অন্তত ৬ মাস বা এক বছরের জন্য চুল সোজা থাকবে এমন নিশ্চয়তার জন্য বিভিন্ন বিউটি পার্লারে এখন চুল রিবন্ডিং করা হয়।রিবন্ডিং কি ?
রিবন্ডিং একটি কেমিকেল ট্রিটমেন্ট যা আপনার চুলকে একদম সোজা করে একে একটা উজ্জ্বল ও মোলায়েম ভাব এনে দেয়। এটা স্থায়ী, তাই খরচটাও বেশি। খরচটা পার্লার ভিত্তিক ও কি ধরনের প্রসাধন তারা ব্যবহার করছে, কেমন সুবিধা দিচ্ছে, আপনার চুল কত লম্বা এসবের উপর নির্ধারণ করে ঠিক করা হয়। প্রত্যেকের চুলের কিছু স্বাভাবিক ধরন আছে, কারও চুল ঢেউ খেলানো, কারো কোঁকড়ানো। হেয়ার রিবন্ডিং লোশন এই গঠনটাকে ভেঙ্গে এক নতুন ধাঁচে তৈরি করে একে “স্ট্রেইট লুক” দেয়।

যেভাবে রিবন্ডিং করা হয় –
চুলে রিবন্ডিং পদ্ধতি নির্ভর করে আপনার চুলের ধরন, লম্বায় কতটুকু এবং চুল পাতলা না ঘন তার উপর। তবে সাধারণত এই ব্যাপারটা একটু দীর্ঘই হয়, ৭-৮ ঘন্টা লাগে রিবন্ডিং করতে।

– প্রথমে চুলে শ্যাম্পু করা হয় এবং কন্ডিশনার ব্যাবহার করা হয়না, তারপর চুল পুরোপুরি শুকিয়ে নেয়া হয় হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে।

– তারপর চুলকে আলাদা আলাদা ভাগে ভাগ করে পারমিং লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা হয় চুলকে নরম করার জন্য এবং চুল সোজা রাখার জন্য প্রতিটি ভাগে পাতলা প্লাস্টিক দিয়ে জড়িয়ে রাখা হয়।

– চুলে ক্রিমটি রাখা হয় আধাঘন্টার মতো, বেশিক্ষন রাখলে চুলের ক্ষতি হতে পারে। এরপর চুলে গরম ভাপ দেয়া হয় ১০-৪০ মিনিট পর্যন্ত, এটা নির্ভর করে একেজনের চুলের ধরনের উপর।

– এরপর চুল শোকানো হয় ব্লো ড্রাই করে এবং চুলে কেরাটিন লোশন লাগানো হয়।

– তারপর ফ্ল্যাট আয়রন দিয়ে চুলকে স্ট্রেইট করা হয় এবং কোনো চুল কোঁকড়ানো আছে কিনা দেখা হয়। আয়রন যেন ১৮০ ডিগ্রীর বেশি না হয়। সিরামিক আয়রন মেটাল আয়রনের চেয়ে ভাল হয়। যতক্ষন পর্যন্ত আপনার চুলে চকচকে ভাব না আসে ততক্ষন পর্যন্ত আয়রন করা হতে থাকে।

– চুলকে আবার ভাগ করে নিয়ে এখানে নিউট্রালাইজার লাগানো হয় চুলকে সেট করার জন্য। এটা কমপক্ষে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখা হয়।

– তারপর নিউট্রালাইজার ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিয়ে ব্লো ড্রাই করে চুল শুকিয়ে নেয়া হয়। তারপর সবার শেষে আরেকবার স্ট্রেইনার আয়রন দিয়ে আয়রন করা হয়। ব্যাস হয়ে গেলো আপনার চুল সোজা, ঝলমলে ও মোলায়েম।

তবে রিবন্ডিং চুল দেখতে যেমন আকর্ষনীয় তেমনি এর রক্ষণাবেক্ষনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রিবন্ড করা চুল যত্নের অভাবে ভেঙে যায়, রুক্ষ হয় ও পড়ে যায়। এ জন্য প্রয়োজন অতিরিক্ত যত্নের :

শ্যাম্পু করার আগে –
রাতে নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল চুলে ম্যাসাজ করে দিন। এরপর মোটা দাড়ের চিরুনি দিয়ে কিছুক্ষণ চুল আঁচড়ে নিন। গোসলের আগে গরম পানিতে তোয়ালে চুবিয়ে আধা ঘণ্টা চুল পেঁচিয়ে রাখুন। এরপর শ্যাম্পু করুন। এতে রক্ত সাঞ্চালন বাড়বে। চুলের রুক্ষভাব কমবে।

শ্যাম্পু করা –
সপ্তাহে অন্তত তিনবার শ্যাম্পু করুন। কারণ এ ধরনের চুল খোলা রাখায় দ্রুত ময়লা হয়। তবে বেশি শ্যাম্পু করায় চুল রুক্ষ হলে মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই কন্ডিশনার দিন।

উপযোগী প্যাক –
ডিম একটা, ক্যাস্টর অয়েল এক চামচ, লেবুর রস এক চামচ, মধু এক চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে মাথার স্ক্যাল্পে লাগান। এরপর শাওয়ার ক্যাপ বা তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করুন।

সমস্যা ও সমাধান –
চুল নিস্তেজ হয়ে পড়লে শ্যাম্পু করার পর দুই লিটার পানিতে কয়েক ফোঁটা ভিনেগার মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এতে চুলের উজ্জ্বলতা বাড়বে। চুল ভেঙে গেলে সপ্তাহে একবার হট অয়েল ম্যাসাজ করুন। খুশকির সমস্যা বাড়লে মাথার স্ক্যাল্পে লেবু বা পেঁয়াজের রস লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। চুল রুক্ষ হলে গোসলের পর এক মগ পানিতে এক চামচ মধু মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। চুল মসৃণ হবে। চুল সিল্কি করতে চার কাপ পানিতে চা-পাতা ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে ছেঁকে সেই পানিতে চুল ধুয়ে নিন।

তথ্যসুত্রঃ প্রিয় লাইফ